
বিশেষ প্রতিবেদক | নিজস্ব সংবাদ
সমাজকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে এক অদৃশ্য বিষ—’মাদক’। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এর ভয়াল থাবা। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী এবং যুবসমাজ প্রতিনিয়ত ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দিকে। কেবল একজন ব্যক্তিই নয়, মাদকের কারণে নিঃস্ব হচ্ছে পুরো পরিবার, ব্যাহত হচ্ছে সামাজিক শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা।
সাম্প্রতিক একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি বড় অংশই কিশোর ও যুবক। বন্ধুদের প্ররোচনা, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব কিংবা বিষণ্ণতা থেকে অনেকেই মাদক সেবনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
তেমনি একজন ভুক্তভোগী তরুণী সাদিয়া আক্তার (ছদ্মনাম/প্রকৃত নাম)। অতি কৌতূহল এবং ভুল সঙ্গের কারণে শুরুতে শখের বশে মাদক সেবন শুরু করলেও, ধীরে ধীরে তা পরিণত হয় তীব্র আসক্তিতে। আজ তার পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও শারীরিক স্বাস্থ্য—সবই অনিশ্চয়তার মুখে।
সাদিয়ার মতো এমন বহু তরুণ-তরুণী প্রতিদিন মাদকের জালে জড়িয়ে নিজেদের জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। আর এই আসক্তির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
মাদক কেবল একজন মানুষের শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং মানসিকভাবে তাকে পুরো ধ্বংস করে দেয়। পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হওয়ার পেছনে মাদক একটি প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাদিয়া আক্তারের মতো সন্তানদের আসক্তির কথা জানতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন মা-বাবারা। সমাজে সম্মানহানি এবং অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে বহু পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন মাদক সেবনের ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকল হওয়া, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি শতগুণ বেড়ে যায়। নিয়মিত মাদক সেবন মানুষের স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধি ও নৈতিকতা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে মানুষ সহজেই অপরাধমূলক কাজে জড়ায়।
বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল আইনি কঠোরতা দিয়ে মাদক সমস্যা পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ:
Leave a Reply