স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে উত্তর দৌলতপুরের মৃত মতছির আলীর পুত্র নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ডেভিল আলামিন হকের(২৭) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী আয়শা আক্তার ইভা (১৯) আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বাদীনি আয়শা আক্তার ইভা (১৯) দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিশ্বনাথের শাহজিরগাঁও এলাকায় বসবাস করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি আলামিন হকের সঙ্গে বাদীনির প্রায় দুই বছর ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে আলামিন হক বাদীনিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। পরবর্তীতে তাকে বিয়ের কথা বলে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে নগ্ন ছবি মোবাইলে ভিডিও সহ ধারণ করেন।
পরে তরুনীকে মেনেজ করে
আসামির বাড়িতে নেওয়া হলেও কিছুদিন পর বাদীনিকে তার বাড়িতে ফেরত দিয়ে আসা হয়।
এরপর আসামি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীনির অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্বনাথ বাজারে তার বাবা কার সার্ভিসিং সেন্টারে থাকায় এবং মা ও ছোট ভাই-বোন পাশের ঘরে অবস্থানকালে দরজায় টোকা দেওয়ার পর বাদীনি দরজা খুলে দেন।
এ সময় আলামিন হক জোরকরে ঘরে প্রবেশ করে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং চিৎকার করতে চাইলে মুখ চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আসামী আলামিন বাদিনী ইভাকে হুমকি দিয়ে জোর করে উলংঙ্গ করে চেপে ধরে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এরপর আসামি প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির কথা বলে কসম করে বাদীনির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও নগ্ন উলংঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন।
বাদীনির কান্নার শব্দ শুনে তার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার রিপা (১৭) ছুটে এলে আসামি ডেভিল আলামিন দ্রুত ঘরের দরজা খুলে বের হয়ে যান বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ফাতেমা তার বোনকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান এবং বিষয়টি তাদের মাকে জানান।
ঘটনার পর বাদীনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন তার মা তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেন। পরে ছাড়পত্র নিয়ে থানায় গেলে মামলা গ্রহণ না করায় আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে নথিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাদীনি আয়শা আক্তার ইভা আদালতে আবেদন করেন। নথিতে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৯(১) ধারায় দায়েরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আসামি হিসেবে আলামিন হক (২৭), পিতা-মৃত মতছির আলী, মাতা-মৃত মিনারা বেগম,
উত্তর দৌলতপুর,দৌলতপুর ইউনিয়ন, বিশ্বনাথ, সিলেটের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বাদীনির ছোট বোন ফাতেমা আক্তার রিপা ও মা রিনা বেগমকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত বিশ্বনাথ থানার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
তবে প্রতিবেদক অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া য়ায়। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই নথিগুলোতে পাওয়া যায়নি।
বিশেষ সূত্রমতে, অভিযুক্ত ডেভিল আলামিন নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের প্রথম সারির তালিকাভুক্ত ফ্যাসিষ্ট ও পতিত স্বৈরাচারের আমলে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য পরে একাধিক মামলায় তালিকাভুক্ত আসামী।